একটা বাচ্চা যখন জন্ম নেয়, তখন ওর মস্তিষ্কে থাকে প্রায় ১০০ বিলিয়ন নিউরন — মানে গোটা জীবনে যা লাগবে, তার প্রায় সবটাই। কিন্তু এই নিউরনগুলো একটার সাথে আরেকটা কতটা ভালোভাবে যুক্ত হবে, সেটা নির্ভর করে জন্মের পর প্রথম কয়েক বছরে বাচ্চাটা কী দেখছে, কী শুনছে, কার সাথে কথা বলছে, কীভাবে খেলছে — তার ওপর। হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির সেন্টার অন দ্য ডেভেলপিং চাইল্ড এই বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে গবেষণা করছে, আর তাদের একটা কথা প্রায়ই উদ্ধৃত হয়।

মস্তিষ্কের এই "আর্কিটেকচার" তৈরির সবচেয়ে দ্রুত আর সবচেয়ে সংবেদনশীল সময়টা হলো জন্ম থেকে পাঁচ-ছয় বছর বয়স পর্যন্ত। এরপরও শেখা চলে, কিন্তু ভিত্তিটা মূলত ততদিনে গড়ে যায়।

এখন প্রশ্ন হলো, এই সময়টায় আমরা অভিভাবক হিসেবে ঠিক কী করতে পারি? আসলে খুব জটিল কিছু না। একটা বাচ্চার সাথে কথা বলা, ওর প্রশ্নের উত্তর দেওয়া, ওকে গল্প শোনানো, ছবি দেখিয়ে জিনিসের নাম বলা — এই ছোট ছোট মুহূর্তগুলোই আসলে মস্তিষ্কের সংযোগ তৈরি করে দেয়। যে বাচ্চা প্রতিদিন অনেক কথা শোনে আর নিজেও কথা বলার সুযোগ পায়, তার ভাষাগত দক্ষতা স্বাভাবিকভাবেই এগিয়ে থাকে। আমেরিকান একাডেমি অফ পেডিয়াট্রিক্স তাদের পরামর্শে বারবার বলে — টিভি বা মোবাইলের স্ক্রিনের চেয়ে বাস্তব মানুষের সাথে মুখোমুখি কথোপকথন এই বয়সের শিশুর জন্য অনেক বেশি কার্যকর।

বাস্তবতা যখন একটু জটিল

কিন্তু বাস্তবতা হলো, আজকালকার পরিবারে বাবা-মা দুজনেই কাজ করেন, দিনের অনেকটা সময় বাচ্চা বাড়ির বাইরে কাটায় — আত্মীয়ের কাছে, কেয়ারগিভারের কাছে, অথবা স্কুলে। তাই এই সময়টায় বাচ্চা আসলে কোথায় থাকছে, কার সাথে সময় কাটাচ্ছে, সেই পরিবেশটা কেমন — এসব প্রশ্ন অভিভাবকদের জন্য অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। একটা ভালো প্রি-স্কুল এখানে শুধু "বাচ্চা রাখার জায়গা" না — এটা সেই ভিত্তি তৈরির প্রক্রিয়ার একটা বড় অংশীদার।

একটা ভালো প্রি-স্কুলে যা থাকা উচিত

  • ছোট ক্লাস সাইজ — একজন শিক্ষক অল্প কয়েকজন বাচ্চাকে দেখলে প্রতিটা বাচ্চার আলাদা প্রয়োজন বুঝতে পারেন, সেভাবে সাড়া দিতে পারেন।
  • খেলার মধ্য দিয়ে শেখা — এই বয়সে বাচ্চারা বই খুলে বসে শেখে না, তারা শেখে ব্লক দিয়ে খেলে, রং করে, গল্প শুনে, একসাথে খেলতে গিয়ে ঝগড়া করে আর মিটমাট করে।
  • নিরাপদ ও স্নেহপূর্ণ পরিবেশ — যেখানে বাচ্চা ভুল করতে ভয় পায় না, প্রশ্ন করতে দ্বিধা করে না।

আরেকটা জিনিস প্রায়ই অবহেলিত হয় — এই বয়সে ভাষা আর সংস্কৃতির ভিত্তিটাও গড়ে ওঠে। একটা বাচ্চা যদি ছোটবেলা থেকেই একাধিক ভাষায় স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে, নিজের সংস্কৃতি আর মূল্যবোধের সাথে পরিচিত হয়, তাহলে বড় হয়ে এই জিনিসগুলো তার জন্য বোঝা মনে হয় না, বরং স্বাভাবিক অংশ মনে হয়।

একটা কথা মনে রাখা জরুরি — আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা আর নিজের ধর্মীয়-সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ, এই দুটোর মধ্যে বেছে নেওয়ার কোনো দরকার নেই। ভালো একটা স্কুল দুটোই একসাথে দিতে পারে।

শেষ কথা হলো, এই প্রথম কয়েকটা বছর ফিরে আসে না। বাচ্চা প্রতিদিন বদলাচ্ছে, শিখছে, বড় হচ্ছে। তাই এই সময়টায় আমরা তাকে কেমন পরিবেশ দিচ্ছি, কাদের সাথে সময় কাটাতে দিচ্ছি — এই সিদ্ধান্তগুলো নেওয়ার সময় একটু বেশি সময় নিয়ে ভাবা, স্কুল ভিজিট করা, শিক্ষকদের সাথে কথা বলা, ক্লাসরুম দেখা — এই কাজগুলো সত্যিই মূল্যবান বিনিয়োগ।

তথ্যসূত্রCenter on the Developing Child, Harvard University — developingchild.harvard.edu
American Academy of Pediatrics — healthychildren.org

ফ্লারিশ সম্পর্কে আরও জানতে চান?

বয়স ৩-১০ বছরের জন্য ভর্তি চলছে — ক্যাম্পাস ভিজিট করুন অথবা এখনই আবেদন করুন।