খাওয়ানোর সময় ফোন, কান্না থামাতে ফোন, বাবা-মা ব্যস্ত থাকলে ফোন। আমরা প্রায় সবাই কোনো না কোনো সময় এই পথে হেঁটেছি। কারণ ফোন সবচেয়ে সহজ উপায়। কিন্তু সহজ উপায়ের একটা দাম থাকে, আর সেই দাম দেয় শিশুর মনোযোগ, ঘুম আর কথা বলার অভ্যাস।

শিশু-বিকাশ বিশেষজ্ঞরা সাধারণভাবে পরামর্শ দেন, ছোট শিশুদের স্ক্রিন সময় যত কম রাখা যায় ততই ভালো, বিশেষ করে ঘুমানোর আগে। আসল সমস্যা হলো, শিশু স্ক্রিনে দেখে, কিন্তু স্ক্রিন তাকে কিছু শেখানোর জন্য কথা বলে না, ফিরে তাকায় না, ছোঁয়ার সুযোগ দেয় না। শিশুর মস্তিষ্ক গড়ে ওঠে মানুষের সাথে কথা, খেলা আর হাতের কাজে।

ফোন কেড়ে নিলে কেন কাজ হয় না

হঠাৎ ফোন সরিয়ে নিলে শিশু কাঁদবে, জেদ করবে, আর আপনি হার মেনে ফোন ফিরিয়ে দেবেন। এতে সে শেখে, কেঁদে চাইলেই পাওয়া যায়। তাই ফোন সরানোর আগে দরকার ফোনের জায়গায় একটা মজার বিকল্প।

পাঁচটা সহজ বিকল্প

  • হাতের কাজ — কাগজ ভাঁজ করা (ওরিগামি), মাটি বা আটার খেলা, রং করা। ফ্লারিশে আমরা নিজেরাই এসব করাই।
  • গল্প বলা — রাতে ঘুমের আগে নবী-রাসূলদের গল্প বা আপনার ছোটবেলার গল্প। আপনার কণ্ঠ ফোনের চেয়ে অনেক বেশি টানে।
  • রান্নাঘরে সাহায্য — সবজি ধোয়া, ডিম গোনা। শিশু ভাবে সে বড় কাজ করছে।
  • বাইরে খেলা — বিকেলে ছাদে বা মাঠে আধঘণ্টা। শরীর ক্লান্ত হলে ঘুমও ভালো হয়।
  • ছড়া ও গান — একসাথে গাইলে ভাষা, স্মৃতি আর বন্ধন তিনটাই বাড়ে।

নিয়ম বানান, কিন্তু নিজেও মানুন

  • খাওয়ার টেবিলে সবার জন্য "ফোন নয়" নিয়ম।
  • ঘুমানোর অন্তত এক ঘণ্টা আগে সব স্ক্রিন বন্ধ।
  • ফোন দেখার সময় ঠিক করুন, আর শেষ হলে আগে থেকে জানিয়ে দিন, "আর পাঁচ মিনিট"।
  • আপনি নিজে সন্তানের সামনে কম ফোন চালান। শিশু যা দেখে, তাই করে।
মূল কথা — ফ্লারিশে ক্লাস ডায়েরি, ফল আর নোটিশ অ্যাপে দেখা যায়, কিন্তু আমরা চাই সন্তানের সামনে নয়, সে ঘুমালে বা আপনার সময়মতো দেখুন। স্কুলের শিশুরা নিজে গল্প, গান, ওরিগামি আর সরোবান নিয়ে ব্যস্ত থাকে, তাই বাড়িতে ফোনের দাবি এমনিতেই কমে আসে।

ফ্লারিশ সম্পর্কে আরও জানতে চান?

বয়স ৩-১০ বছরের জন্য ভর্তি চলছে — ক্যাম্পাস ভিজিট করুন অথবা এখনই আবেদন করুন।