আমাদের চারপাশে অনেকেরই একটা স্মৃতি আছে — ছোটবেলায় কুরআন শিখতে বসে বেতের বাড়ি খাওয়া, ভুল উচ্চারণে ধমক শোনা, পড়া না পারলে কান ধরে দাঁড়িয়ে থাকা। এই প্রজন্মের অনেক বাবা-মায়েরই এমন অভিজ্ঞতা আছে। আর এই একই মানুষগুলো যখন নিজের সন্তানকে কুরআন শেখানোর কথা ভাবেন, তখন তাদের মনে একটা চাপা ভয় কাজ করে — আমার সন্তানও কি এই একই কষ্টের ভেতর দিয়ে যাবে?

এই প্রশ্নটা আমাদের কাছে খুব গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আমরা মনে করি, একটা জিনিস ভয় দিয়ে শেখানো আর ভালোবাসা দিয়ে শেখানো — এই দুটোর ফলাফল আসলে সম্পূর্ণ আলাদা।

ভয় দিয়ে শেখানো একটা বাচ্চাকে তোতাপাখির মতো আয়াত বলতে শেখাতে পারে। কিন্তু ভালোবাসা দিয়ে শেখানো তাকে কুরআনের সাথে সারাজীবনের একটা সম্পর্কে বেঁধে দেয়।

ভয় দিয়ে যদি একটা বাচ্চাকে কুরআন মুখস্থ করানো হয়, তাহলে হয়তো সে তোতাপাখির মতো আয়াত বলতে পারবে। কিন্তু বড় হয়ে যখন তার হাতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতা আসবে, তখন সে হয়তো কুরআনের কাছ থেকেই দূরে সরে যাবে — কারণ তার কাছে কুরআন মানেই কষ্টের স্মৃতি, শাস্তির ভয়। আমরা এরকম উদাহরণ কম দেখিনি।

কিন্তু যদি একটা বাচ্চা কুরআন শেখে ভালোবাসা দিয়ে, ধীরে ধীরে, নিজের বয়স আর বোঝার ক্ষমতা অনুযায়ী — যদি তার শিক্ষক তার সাথে হাসিমুখে কথা বলেন, ভুল হলে বকুনি না দিয়ে আবার চেষ্টা করার সুযোগ দেন, প্রতিটা ছোট অর্জনে উৎসাহ দেন — তাহলে সেই বাচ্চার মনে কুরআন একটা আনন্দের, শান্তির জায়গা হয়ে থাকে।

আমাদের তিনটা মূল নীতি

  • বয়স অনুযায়ী ধাপে ধাপে — একটা তিন বছরের বাচ্চার কাছ থেকে যা প্রত্যাশা করা যায়, আর একটা আট বছরের বাচ্চার কাছ থেকে যা প্রত্যাশা করা যায়, এই দুটো এক না।
  • প্রতিটা শিক্ষার্থীর নিজস্ব গতি — কেউ দ্রুত শেখে, কেউ একটু ধীরে, আর এটা কোনো সমস্যা না।
  • শুধু মুখস্থ না, অর্থ বোঝানো — যাতে বাচ্চা শুধু আয়াত আওড়াতে না পারে, বরং তার ভেতরের কথাটাও কিছুটা অনুভব করতে পারে।

আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যেটা — আমাদের শিক্ষকরা জানেন, একটা বাচ্চার সাথে কীভাবে কথা বলতে হয়। ধমক দিয়ে না, বরং ধৈর্য নিয়ে। একটা বাচ্চা যদি আজ একটা লাইন মনে রাখতে না পারে, কাল আবার চেষ্টা করবে — এটাই স্বাভাবিক, এতে লজ্জার কিছু নেই।

হিফজের ক্ষেত্রেও — যারা হিফজ শিখতে চায়, তাদের জন্য আমাদের কাছে আলাদা যত্ন আর গতি আছে, কিন্তু সেখানেও একই দর্শন কাজ করে। তাড়াহুড়ো না, চাপ না, বরং একটা স্থিতিশীল, ধারাবাহিক পথচলা, যেখানে বাচ্চা নিজেই এগিয়ে যেতে চায়।

আমরা বিশ্বাস করি, একটা শিশু যদি ছোটবেলায় কুরআনকে ভালোবাসতে শেখে, তাহলে বড় হয়ে সে নিজে থেকেই কুরআনের কাছে ফিরে আসবে — কোনো চাপ ছাড়াই, শুধু নিজের হৃদয়ের টানে। আর এই ভালোবাসাটাই আসলে সবচেয়ে টেকসই শিক্ষা।

ফ্লারিশ সম্পর্কে আরও জানতে চান?

বয়স ৩-১০ বছরের জন্য ভর্তি চলছে — ক্যাম্পাস ভিজিট করুন অথবা এখনই আবেদন করুন।