প্রতি বছর ভর্তির সময় এলে একটা প্রশ্ন বারবার ফিরে আসে: "আমার ছেলে বা মেয়ের বয়স তো মোটে তিন, এখনই স্কুলে দেব, নাকি আরেকটু অপেক্ষা করব?" প্রশ্নটা খুব স্বাভাবিক। কারণ আপনি জানেন, একবার ভুল জায়গায় বা ভুল সময়ে শুরু হলে শিশুর মনে স্কুল নিয়ে ভয় বসে যেতে পারে।
সত্যি কথা হলো, শিশুর বয়স একটা সংখ্যা মাত্র। একজন তিন বছরের শিশু তৈরি থাকতে পারে, আবার একজন সাড়ে তিন বছরের শিশু নাও থাকতে পারে। তাই বয়সের হিসাবের চেয়ে বেশি কাজে দেয় শিশুটাকে কাছ থেকে দেখা।
স্কুলের জন্য প্রস্তুত শিশুর পাঁচটা লক্ষণ
- মায়ের কাছ থেকে কিছুক্ষণ আলাদা থাকতে পারে — দাদি, নানি বা অন্য কারও কাছে এক-দুই ঘণ্টা কাটালে খুব বেশি কান্নাকাটি করে না।
- নিজের প্রয়োজন বলতে পারে — পানি খাব, বাথরুমে যাব, ক্ষুধা লেগেছে, এমন কথা সহজ ভাষায় জানাতে পারে।
- অন্য শিশুদের সাথে খেলতে আগ্রহী — একা একা খেলতে ভালোবাসলেও অন্যদের দেখলে কৌতূহল দেখায়।
- কয়েক মিনিট এক জায়গায় বসে গল্প বা ছড়া শুনতে পারে — লম্বা সময় নয়, পাঁচ-সাত মিনিট হলেই চলে।
- নিজের ছোট কাজ নিজে করার চেষ্টা করে — জুতা পরা, বোতল থেকে পানি খাওয়া, হাত ধোয়া।
এর মধ্যে তিন-চারটা মিললেই শিশু শুরুর জন্য মোটামুটি প্রস্তুত। বাকিগুলো স্কুলে এসে ধীরে ধীরে শিখে নেবে।
ছোটদের স্কুল আর বড়দের স্কুল এক নয়
অনেকে ভাবেন, তিন বছরে স্কুলে দেওয়া মানে পড়ালেখার চাপ। ভালো স্কুলে ব্যাপারটা উল্টো। ফ্লারিশে প্রি-প্লে, প্লে ও নার্সারির শিশুদের জন্য দিনে সর্বোচ্চ চারটা ক্লাস। এর মধ্যে ছড়া, গল্প, রং, খেলা আর হাতে-কলমে শেখাই বেশি। দ্বিতীয় ক্লাসের পর কুড়ি মিনিটের টিফিন বিরতি থাকে, যাতে শিশু খেতে, খেলতে আর জিরিয়ে নিতে পারে।
অর্থাৎ ছোটদের স্কুলের কাজ হলো শিশুর মনে স্কুল নিয়ে ভালোবাসা তৈরি করা। অক্ষর চেনা, সংখ্যা গোনা এসব আসবে পরে, আনন্দের ভেতর দিয়ে।
প্রথম সপ্তাহে কান্না হলে কী করবেন
- সময়মতো পৌঁছান, হাসিমুখে বিদায় দিন। লম্বা বিদায় শিশুকে আরও কাঁদায়।
- কান্নাকাটি শুনলেও ফিরে গিয়ে নিয়ে আসবেন না। শিক্ষক এই পরিস্থিতি সামলাতে অভ্যস্ত।
- বাড়ি ফিরে প্রথমে আদর, তারপর গল্প শুনুন। "কেন কাঁদলে" জিজ্ঞেস করবেন না।
ফ্লারিশ সম্পর্কে আরও জানতে চান?
বয়স ৩-১০ বছরের জন্য ভর্তি চলছে — ক্যাম্পাস ভিজিট করুন অথবা এখনই আবেদন করুন।
