জাপান ঘুরে আসা একজন মানুষের কাছে একটা গল্প প্রথম শুনেছিলাম — সেখানকার স্কুলগুলোতে নাকি কোনো পরিচ্ছন্নতাকর্মী থাকে না। ক্লাস শেষ হলে বাচ্চারাই নিজেদের ক্লাসরুম ঝাড়ু দেয়, টেবিল মোছে, টয়লেট পরিষ্কার করে। প্রথম শুনে মনে হয়েছিল, এটা হয়তো একটু বাড়িয়ে বলা গল্প। কিন্তু খোঁজ নিয়ে দেখলাম, এটা সত্যিই জাপানের স্কুল ব্যবস্থার একটা নিয়মিত অংশ — একে বলে "ও-সৌজি" (お掃除), মানে পরিষ্কার করার সময়। প্রতিদিন ক্লাসের শেষে একটা নির্দিষ্ট সময় বরাদ্দ থাকে, যখন বাচ্চারা দলে ভাগ হয়ে নিজেদের স্কুল নিজেরা পরিষ্কার করে।

একই রকম আরেকটা জিনিস — স্কুলের দুপুরের খাবার, যাকে বলে "কিউশোকু" (給食)। এটা কোনো কর্মচারী এসে পরিবেশন করে না। বাচ্চারাই পালা করে অ্যাপ্রোন আর মাস্ক পরে, নিজেদের সহপাঠীদের খাবার বেড়ে দেয়, খাওয়া শেষে থালা-বাসন গুছিয়ে রাখে।

একটা বাচ্চাকে ভালো ছাত্র বানানোর আগে, তাকে একজন দায়িত্বশীল মানুষ বানাতে হবে — এটাই জাপানি শিক্ষা দর্শনের মূল কথা।

প্রথমে শুনলে মনে হতে পারে, এটা তো বাড়তি কাজ চাপিয়ে দেওয়া, বাচ্চাদের তো পড়াশোনার সময় নষ্ট হচ্ছে। কিন্তু আসল ব্যাপারটা উল্টো। নিজের জায়গা নিজে পরিষ্কার রাখা, নিজের কাজের দায়িত্ব নিজে নেওয়া, অন্যের জন্য কিছু করার অভ্যাস — এগুলো কোনো পরীক্ষায় নম্বর দিয়ে মাপা যায় না, কিন্তু এগুলোই আসলে একটা মানুষের চরিত্রের ভিত্তি।

আমাদের মূল্যবোধের সাথেই মিলে যায়

আমরা যখন আমাদের স্কুলের রুটিন সাজাচ্ছিলাম, এই জিনিসটা আমাদের খুব ভাবিয়েছিল। আমরা ভাবলাম, শুধু ইংরেজি-গণিত-বিজ্ঞান শেখানোই যথেষ্ট না। একটা বাচ্চা যদি প্রতিদিন নিজের বেঞ্চ গুছিয়ে রাখে, নিজের ব্যাগ নিজে গোছায়, ক্লাসের পর নিজের জায়গাটা পরিষ্কার রাখার অভ্যাস করে — তাহলে এই ছোট ছোট দায়িত্বগুলো তার মধ্যে একটা অভ্যাস তৈরি করে দেয়, যেটা সারাজীবন তার সাথে থাকবে।

মজার ব্যাপার হলো — "পরিচ্ছন্নতা ঈমানের অঙ্গ" — এই কথাটা আমরা ছোটবেলা থেকেই শুনে আসছি। জাপানি এই অভ্যাসটা তো আসলে আমাদের নিজেদের মূল্যবোধের সাথেই মিলে যায়, শুধু একটা সুশৃঙ্খল রুটিনের মধ্য দিয়ে সেটাকে বাস্তবে রূপ দেওয়া।

আমাদের ক্লাসরুমে যা রাখা হয়েছে

  • নিজের খেলনা নিজে গুছিয়ে রাখা — খেলা শেষে জায়গামতো ফেরত দেওয়ার অভ্যাস।
  • খাওয়ার পর নিজের থালা নিজে রাখা — ছোট্ট একটা দায়িত্ব, কিন্তু নিয়মিত অভ্যাসে পরিণত হয়।
  • বন্ধুকে সাহায্য করা — দলগত কাজে একে অপরের পাশে দাঁড়ানো শেখানো হয় প্রতিদিন।

কোনোটাই বড় কোনো "প্রজেক্ট" না, কিন্তু প্রতিদিন করতে করতে এটা একটা স্বভাবে পরিণত হয়। আমরা বিশ্বাস করি, একটা বাচ্চা পরীক্ষায় কত নম্বর পেল তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো, সে কেমন মানুষ হয়ে বড় হচ্ছে। আর সেই মানুষ হয়ে ওঠাটা শুরু হয় এরকম ছোট ছোট, প্রায় অদৃশ্য অভ্যাসের মধ্য দিয়েই।

ফ্লারিশ সম্পর্কে আরও জানতে চান?

বয়স ৩-১০ বছরের জন্য ভর্তি চলছে — ক্যাম্পাস ভিজিট করুন অথবা এখনই আবেদন করুন।