আমরা সবাই চাই আমাদের সন্তান ভালো ফল করুক। কিন্তু রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে ভাবুন, আপনি আসলে কী হতে দেখতে চান? শুধু একজন এ-প্লাস পাওয়া শিক্ষার্থী, নাকি এমন একজন মানুষ, যে সত্য বলে, বড়দের সম্মান করে, বিপদে অন্যের পাশে দাঁড়ায়?

বেশির ভাগ বাবা-মা দ্বিতীয়টাই চান। অথচ স্কুলের পরীক্ষায় এর কোনো নম্বর থাকে না। ফলে ধীরে ধীরে এটা পিছিয়ে পড়ে।

আমরা চরিত্রকে আলাদা বিষয় বানিয়েছি

ফ্লারিশে চরিত্র একটা আলাদা বিষয়, পূর্ণমান ১০০। এর নম্বর ভাগ করা আছে নয়টা ভাগে:

  • উপস্থিতি ও সময়মতো আসা (১৫)
  • বাবা-মা ও বড়দের সাথে আচরণ (১৫)
  • নামাজ, আদব ও ইসলামি অভ্যাস (১৫)
  • পোশাক ও পরিচ্ছন্নতা (১০)
  • শিক্ষক ও সহপাঠীর সাথে আচরণ (১০)
  • সত্য বলা ও সততা (১০)
  • বাড়ির কাজ ও দায়িত্ববোধ (১০)
  • শৃঙ্খলা ও নিয়ম মানা (১০)
  • সহযোগিতা ও দায়িত্ব পালন (৫)

এর মধ্যে উপস্থিতির নম্বর হাজিরা থেকে নিজে নিজে হিসাব হয়, কারও মর্জিতে নয়। বাকিগুলো দেন ক্লাস টিচার ও বিষয়-শিক্ষকরা, যাঁরা শিশুকে প্রতিদিন কাছ থেকে দেখেন। এই বিষয়ে ফেল নেই, কারণ এটা শাস্তি দেওয়ার জন্য নয়, শিশুর অগ্রগতি দেখানোর জন্য।

চরিত্র শেখানো যায় না, শেখা হয়

শিশু উপদেশ শুনে চরিত্র গড়ে না। সে দেখে দেখে শেখে। আপনি যদি তাকে মিথ্যা না বলতে বলেন, কিন্তু নিজে ফোনে বলেন "বাসায় নেই", সে ঠিক সেটাই শিখবে। তাই ঘর আর স্কুলকে একই সুরে কথা বলতে হবে।

  • সালাম ও ধন্যবাদ — প্রতিদিনের ছোট ভদ্রতাই বড় আচরণের ভিত।
  • সত্য বললে প্রশংসা — ভুল স্বীকার করলে বকাঝকা নয়, আদর করে বোঝানো। তাহলে সে ভুল লুকাতে শিখবে না।
  • নিজের কাজ নিজে — জুতা, ব্যাগ আর বোতল গুছিয়ে রাখার দায়িত্ব তাকে দিন।
  • আপনি যা চান, আগে নিজে করে দেখান —
মূল কথা — আমরা বিশ্বাস করি, ভুল করা শেখারই অংশ। তাই ভুলের জন্য আমরা লজ্জা দিই না, ভুল থেকে শেখাই। আর কোনো অভিযোগ এলে ক্লাস টিচার আগে যাচাই করেন, যাচাই ছাড়া নম্বর কাটা হয় না।

ফ্লারিশ সম্পর্কে আরও জানতে চান?

বয়স ৩-১০ বছরের জন্য ভর্তি চলছে — ক্যাম্পাস ভিজিট করুন অথবা এখনই আবেদন করুন।